পবিত্র কুরআন সম্পর্কে কিছু ভুল ধারণা - যা কুরআন থেকে মানুষকে দূরে সরিয়ে রাখে

১. ভুল ধারণা ১ : কুরআন খুব বেশি পবিত্র, যথাযথ প্রস্তুতি ও পরিচ্ছন্নতা ছাড়া এটা স্পর্শ করা যায় না।

২. ভুল ধারণা ২ : কুরআন বোঝা খুবই কঠিন এবং জটিল। অতি জ্ঞানী ধর্মীয় গুরু ছাড়া অন্য কেউ এটা বুঝতে পারবে না।

৩. ভুল ধারণা ৩ : কুরআন শেখা ও বোঝার জন্য আরও অনেক বইয়ের (তাফসির, শান নুযুল, হাদীস) প্রয়োজন, তাই আগে সেগুলো পড়ুন।

৪. ভুল ধারণা ৪ : কুরআনের শব্দের সঠিক উচ্চারণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, এটি ছাড়া শব্দের অর্থ পরিবর্তন হয়ে যাবে এবং আল্লাহ ভয়ঙ্কর শাস্তি দেবেন।

৫. ভুল ধারণা ৫ : কুরআন যথেষ্ট নয়, সম্পূর্ণ নয়, এমনকি ধর্ম পালনের জন্য খুব বেশি প্রয়োজনীয়ও নয়।

৬. ধর্মীয় নেতারা মানুষকে তাদের কথা শুনতে বলেন। কুরআন নিজে পড়তে এবং তাদের কাছে আয়াতের ব্যাখ্যা করার জন্য প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করতে উৎসাহিত করেন না। কুরআন শেখাতে তাদের কোন আগ্রহ নেই।

৭. কুরআন পড়া, কুরআন তিলাওয়াত করা, কুরআন মুখস্থ করা আর কুরআনের মূল বানী / শিক্ষা বোঝার চেষ্টা করা এক নয়।

৮. "কুরআন খতম" একটি বিষয় যেটা তারাবিহর নামাজে এবং কোন মানুষের মৃত্যুর পর আয়োজন করা হয়। কুরআন সত্যিই খতম করার জন্য ভয়ঙ্কর এক চেষ্টা। এটা অনেক মানুষকে একটা ভুল বিশ্বাস দেয় যে, তার কোরআন পড়া হয়ে গেল। মৃত মানুষের আত্মীয়কে সান্তনা দেয় যে, মৃত মানুষের অনেক কোরআন পড়ার পূণ্য হলো।

৯. কুরআনের নির্দিষ্ট কিছু সূরা বা আয়াতকে বেশি ফজিলত পূর্ণ মনে করা। সে ক্ষেত্রে পাঠক নির্দিষ্ট দিনে নির্দিষ্ট সূরা বা আয়াত বার বার পাঠ করতে থাকে, পুরো কুরআন অধরাই থেকে যায়।

১০. আপনার মনের শয়তান, আপনাকে কখনই কুরআনের বাণীর কাছে যেতে দেবে না। এই বাধা অতিক্রম করা সবচেয়ে কঠিন।

১১. তার চেয়েও কঠিন হলো কুরআনের বাণী নিজে বুঝে, বিশ্বাস করে নিজের জীবনে এবং সমাজে সেটার চর্চা করা, সামর্থ্য অনুযায়ী তা বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করা।

১২. কুরআনের খণ্ডিত অংশ উপস্থাপন করে পুরো বিষয় ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করা। এটা অত্যন্ত ক্ষতিকর। পুরো কুরআন বারবার পড়া না থাকলে এবং একটি আয়াতের পূর্ববর্তী কিছু আয়াত এবং পরবর্তী কিছু আয়াত জানা না থাকলে, পুরো অর্থ বিকৃত হয়ে যেতে পারে।

১৩. কুরআনের কিছু আয়াত আছে রূপক, যার একাধিক অর্থ হতে পারে অথবা প্রকৃত অর্থ সবার বোধগম্য নাও হতে পারে। কিছু আয়াত আছে, যেগুলো অজানা অদৃশ্য বিষয় সীমিত তথ্য প্রদান করে। এমন সব আয়াত সম্পর্কে নির্দিষ্ট কিছু ধারণা সবচেয়ে সঠিক বিবেচনা করে তর্ক বিতর্ক, বিভেদ সৃষ্টি করা উচিত নয়।

১৪. নিজে আরবি ভাষা জানেন অথবা না জানেন, একাধিক অনুবাদ পড়া ভালো। এতে প্রতিটি আয়াত সম্পর্কে ভালো জ্ঞান অর্জন করা যায়। অনুবাদক সম্পর্কেও যথেষ্ট খোঁজখবর নেওয়া উচিত। তার চিন্তাধারা, বিশ্বাস ইত্যাদি সম্পর্কে জানা দরকার।

১৫. কুরআনের কোন আয়াত সম্পর্কে কেউ কোন কথা বললে, সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকতে হবে নিজে আবার সেই আয়াত এবং তার পূর্ববর্তী ও পরবর্তী আয়াতগুলো কুরআন থেকে দেখে নেওয়া।

১৬. কুরআনের আয়াত বাতিল হওয়া, পরিবর্তন হওয়া ইত্যাদি সম্পর্কে কিছু ভয়ঙ্কর গুজব আছে। যা কুরআনের মূল বিশ্বাসের পরিপন্থী।

১৭. কুরআন সমগ্র মানবজাতির জন্য এসেছে। এর মূলভাব হলো, সৃষ্টিকর্তা এক এবং অসীম ক্ষমতার অধিকারী, পৃথিবীতে আমাদের প্রতিটি কর্মের প্রতিফল কোন এক বিচার দিবসে হিসাব করা হবে এবং পুরস্কার অথবা শাস্তি প্রদান করা হবে। সুতরাং আমাদের সৎ কাজ করতে হবে, সেই সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করতে হবে, সম্পদের সুষম বন্টন নিশ্চিত করতে হবে এবং সম্প্রীতি বজায় রাখতে হবে।

সেজন্যই কুরআনে কোন নির্দিষ্ট ধর্মের রীতিনীতির বিস্তারিত বর্ণনা দেওয়া নেই। পরবর্তীতে, বিভিন্ন ইতিহাস, প্রথা, বিচারের রায়, সংস্কৃতি, আচার-আচরণ, মানুষের ক্ষমতা, মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে বিতর্ক, দলাদলি এই সকল কিছু ধর্মের অনুষঙ্গ হয়ে গেছে।

সকল ক্ষেত্রে, একমাত্র কুরআন সহজ সরল সুন্দর পথের সন্ধান দেবে।


Comments